দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা দুটি কথিত কবর ভেঙে ফেলেছেন সজীব বেপারী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে কবর দুটি নিজেই তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিনে ওই বাড়িতে যান। এ সময় বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর দেখতে পান তারা।
পরে সজীব বেপারী ও তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরির কথা স্বীকার করেন। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি কবর দুটি খুঁড়ে ভেঙে ফেলেন। তবে কী কারণে কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি সজীব।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন তার কাছে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।
গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর গায়েবিভাবে জেগে উঠেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় প্রচার করা হয়। সজীব দাবি করেন, কবর দুটির একটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী এবং অন্যটি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে ওই বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একই সঙ্গে সজীবের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল জানান, এমন ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। মানুষ যেন প্রতারিত না হন, সে জন্য সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই কবর দুটি তৈরির কথা স্বীকার করেন এবং পরে সেগুলো ভেঙে ফেলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে সজীব ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
যে আই